মেনু
হোম
ভারতে উচ্চ শিক্ষা
ভারতে উচ্চ শিক্ষার কারন
ভারতে উচ্চ শিক্ষার কারন

ভারতে উচ্চ শিক্ষার কারন

ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্ধু-প্রতিম এবং নিকটতম প্রতিবেশি দেশ। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারনে বাংলাদেশের তিন দিকে রয়েছে ভারত এবং একদিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। সংগত কারনে, বাংলাদেশের সাথে ভারতের এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকাটাই সবার প্রত্যাশা। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি এবং বাংলা ভাষার উৎপত্তিও ভারতীয় উপমহাদেশে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবন-যাপন, খাদ্য ও সংস্কৃতি, আবহাওয়া ও জলবায়ু, শিক্ষা, মানুষের চেহারা এবং আচার-আচরন সহ প্রভৃতি বিষয়ে অনেক মিল রয়েছে। আমরা একই ভূখন্ডের মানুষ। পার্থক্য শুধু ভৌগোলিক সীমারেখা এবং দুটি দেশের নাম বাংলাদেশ এবং ভারত।

প্রায় ১৩৪ কোটি মানুষের দেশ ভারত এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ। উচ্চ-শিক্ষা ব্যবস্থায় পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম স্থানে রয়েছে ভারত। আগামী দিনগুলোতে পৃথিবীর মোট শিক্ষিত জনগোষ্ঠির প্রতি চার জনে একজন হবে ভারতীয়।

ভারতের আইটি শিক্ষা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা এবং চিকিৎসাবিদ্যা এখন বলতে গেলে গোটা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনা করলে দেখা যাবে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে হয়ত ভারত পৃথিবীর চালিকাশক্তির ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। তাই ভারতের নিকট থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে এবং জানার আছে।

আমি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, শত-শত বছরের শোষণের ইতিহাস ভেঙ্গে নবজাগরনের সূচনা ঘটেছে এশিয়া মহাদেশে।আগামী দিনের পৃথিবী নিয়ন্ত্রনের ভার বর্তাবে এশিয়া মহাদেশের উপর। পশ্চিমা বিশ্বের শোষনের দিন শেষ। 

শিল্পায়নে এশিয়া মহাদেশে যে নতুন প্রানশক্তির সৃষ্ঠি হয়েছে সে ধারাকে অব্যহত রাখার জন্য চাই প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠি। বাংলাদেশ হতে পারে শিল্পায়নের অন্যতম বৃহত্তম অংশীদার।কুসংস্কার এবং তথাকথিত রাজনৈতিক ধারাকে উপেক্ষা করে, প্রকৃত শিক্ষা এবং পেশাদারিত্বমুলক মনোবৃত্তি নিয়ে এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
 
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৪০টিরও বেশি সরকারী এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। উচ্চ শিক্ষায় আমাদের অগ্রগতি প্রশংসাযোগ্য এবং নিকট ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য আসবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। 

ভারতীয় দুতাবাসের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ১৫০০ জনের অধিক ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে বর্তমানে অধ্যয়নরত আছেন। যারা শিক্ষা জীবন শেষ করে ভারতে প্রত্যাগমন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন বলে আমি আশাবাদি। 

একইভাবে, বাংলাদেশের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভারতে বর্তমানে অধ্যয়নরত আছেন। তারাও শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আমি আশাবাদি। 

ভারতে অধ্যয়নের বিশেষ কারন সমুহ-

  • শিক্ষা এবং গবেষণা বিনিময় হচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী পন্থা 
  • স্থিতিশীল শিক্ষার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে  বিশেষ সহায়ক
  • যথাসময়ে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করা এবং বিশ্বমানের সনদ অর্জন করা 
  • বাস্তব এবং যূগপোযোগী শিক্ষা এবং জ্ঞান অর্জন করা 
  • অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার ব্যয় প্রায় বাংলাদেশে শিক্ষার ব্যয়ের সমান । তাই, খরচ অপরিবর্তিত রেখে ভিন্ন ধারার শিক্ষার সুযোগ  
  • যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক 
  • পশ্চিমা বিশ্বের এক চতুর্থাংশ ব্যয়ে সমমানের সনদ অর্জন, প্রভৃতি .. 

সর্বশেষ সম্পাদিত: ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

সতর্কবাণী: আমাদের প্রকাশিত লেখা বা নিবন্ধগুলি পূর্বানুমতি ব্যতীত কোন প্রকার বানিজ্যিক প্রকাশনা বা অন্য কোন মাধ্যমে হুবাহু বা আংশিক সম্পাদিত আকারে প্রকাশনা বা প্রচারনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইন বর্হিভূত।

Click here to read in English